কেমন হলো দেবের কবীর? রিভিউ পড়ে জেনে নিন।

দেবের ‘কবীর’ সিনেমা আপনার জন্য মাস্ট ওয়াচ। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বাংলায় এর আগে খুব বেশি কাজ হয়নি। তবে সব বয়সের দর্শকদের কথা মাথায় রেখেই বলছি, এই সিনেমা সবার জন্য নয়।

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে অনিকেত চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত, দেব অভিনীত ‘কবীর’ ছবিটি। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, দেবের সিনেমার ক্ষেত্রে বাঙালি অত্যন্ত বেশি রকমের বায়াসড। ভারত ফুটবল বিশ্বকাপ খেলুক না খেলুক, ধর্ষকের শাস্তি হোক না হোক দেবের সিনেমা বাজে হবেই। মূলত এই ধারণার সত্যতা খুঁজতেই এক শনিবারের বিকেলে হাজির হয়েছিলাম শহরতলীর এক বিখ্যাত সিনেমাহলে। সিনেমাটা কেমন হলো ? চলুন, একবার দেখে নিই।

ছবি: পাইকার.কম।

সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি এই ছবির মূল বিষয় সন্ত্রাসবাদ এবং জেহাদ। ঘটনাক্রম শুরু হচ্ছে মুম্বাই শহরে কোনো এক অভিশপ্ত সকালে। দর্শক হলের অন্ধকারে ঠিকমত অভ্যস্ত হয়ে ওঠার আগেই ঘটে যায় একসাথে সাত-সাতটি ভয়াবহ বোম বিস্ফোরণ। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, এই পুরো ঘটনার পিছনে আছে এক কুখ্যাত উগ্রপন্থী সংস্থা। এরপরেই একে একে পর্দায় আসে দেব অভিনীত আলতাফ কবীর এবং রুক্মিণীর ইয়াসমিন খাতুন চরিত্রদুটি। পরবর্তী দু’ঘন্টা এই দুজনেরই কাঁধে ছবিটিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব ছিল, এবং বলতেই হবে যে সে কাজে তারা পুরোপুরি সফল। সম্ভবত সেই কারণেই গোটা সিনেমা জুড়ে একটা অদ্ভুত টানটান সাসপেন্স দর্শকদের আচ্ছন্ন করে রাখে।

 

অত্যন্ত সচেতনভাবেই সিনেমার বেশিরভাগ ঘটনাগুলিকে দেখানো হয়েছে মুম্বাই-হাওড়া দুরন্ত এক্সপ্রেসের একটি কামরার মধ্যে, ফলে গন্তব্য যতই এগোয়, দর্শক অদ্ভুতভাবে ক্রাইসিস সিচুয়েশনের সাথে নিজেকে রিলেট করতে পারেন। একে একে কবীর-ইয়াসমিন-ইমতিয়াজের মত চরিত্রগুলির আসল পরিচয় প্রকাশ পেতে থাকে। ফলত প্রতি মুহূর্তেই ছবির সাসপেন্স আরো জমে উঠতে থাকে। ছবির দৈর্ঘ্য এবং টানটান চিত্রনাট্যও ছবিটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেকাংশে সাহায্য করেছে। এরসাথে গোটা ছবিতেই উঠে আসে জেহাদ, সন্ত্রাসবাদ এবং উগ্রপন্থার মত বিষয়গুলি। ফলে ‘দাঙ্গা হিন্দুরা করে না, দাঙ্গা মুসলমানরাও করে না, দাঙ্গা করে দাঙ্গাবাজেরা’- ছবির শেষে অদ্ভুতভাবে এই কথাটাই যেন এর সাথে সাথে অদ্ভুতভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

ছবি: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

অভিনয় নিয়ে কিছু বলা দরকার। ছবির প্রথম ভালো দিক অবশ্যই আলতাফ কবীর চরিত্রে দেবের অভিনয়। এ ছবিতে দেব নিজের সহজাত হিরো ইমেজ ভেঙে অনেকটাই বেড়িয়ে এসেছেন। বাংলা সিনেমার দর্শকমাত্রই দেবের বাংলা বলার দুর্বলতার সম্মন্ধে ওয়াকিবহাল, সেই বিষয়টা নিয়ে তাকে সিনেমায় প্রচ্ছন্ন মজাও করতে দেখা গিয়েছে। দেব এ ছবিতে যথেষ্ট ঝকঝকে, তবে প্রথমার্ধে তার ডায়লগ ডেলিভারি আরো সাবলীল হতে পারতো। তবে আমার কাছে ‘কবীর’ যতটা না আলতাফ কবীরের ছবি, তার চেয়ে অনেক বেশি ইয়াসমিন খাতুনের ছবি। এই জায়গায় মনে রাখার মত অভিনয় করে গিয়েছেন রুক্মিণী মৈত্র। অন্তত এই ইয়াসমিন চরিত্রায়ন তার চেয়ে ভালো কেউ করতে পারতো বলে মনে হয়নি।

ছবি: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

রুক্মিণীর থেকে ভবিষ্যতে আরো ভালো অভিনয় দেখার অপেক্ষায় থাকবো। পাশাপাশি ‘বাই বাই ব্যাংকক’ বা ‘ছ’এ ছুটি’র পর অনেকদিন বাদে আরো একবার ভালো সিনেমা উপহার দিলেন পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায়।

ছবি: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

তবে ছবিতে অসংখ্য ভালো দিকের মাঝে কিছু খারাপ জায়গাও চোখে পড়ে। বিশেষত কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় বা প্রিয়াঙ্কা সরকারের মত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সেইভাবে ব্যবহারই করা হলো না। তাছাড়া ছবিতে গানের ব্যবহারও আরো ভালো হতে পারতো বলে মনে হয়।

সব মিলিয়ে, পয়লা বৈশাখের প্রাক্কালে দেবের ‘কবীর’ সিনেমা আপনার জন্য মাস্ট ওয়াচ। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বাংলায় এর আগে খুব বেশি কাজ হয়নি। তবে সব বয়সের দর্শকদের কথা মাথায় রেখেই বলছি, এই সিনেমা সবার জন্য নয়। তবে অভিনব বিষয়ভাবনা এবং দেব-রুক্মিণীর অনবদ্য কেমিস্ট্রিই দর্শকদের এই ছবি থেকে প্রাপ্তি হয়ে থাকবে।

Share this.