কেমন হলো নীরজ পান্ডে পরিচালিত ‘আইয়ারি’

চোখ ধাঁধানো স্টারকাস্ট থেকে শুরু করে নীরজের ছবিতে প্রথমবার সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, ছবি হিট করার মতো চমক যথেষ্টই মজুত ছিল। 

বিগত কয়েকবছরে বলিউডে যে কয়েকজন পরিচালকের কাজ সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত হয়েছে, নীরজ পান্ডে তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য। ‘ওয়েডনেসডে’ থেকে ‘স্পেশাল ২৬’, ‘বেবি’ থেকে ‘এম এস ধোনি-দ্য আনটোল্ড স্টোরি’, নীরজ পান্ডে বারবারই আমাদের অভিভূত করেছেন। সে কারণেই তার সাম্প্রতিক ছবি ‘আইয়ারি’ নিয়ে দর্শকমহলে প্রত্যাশা ছিল যথেষ্ট।

চোখ ধাঁধানো স্টারকাস্ট থেকে শুরু করে নীরজের ছবিতে প্রথমবার সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, ছবি হিট করার মতো চমক যথেষ্টই মজুত ছিল। কিন্তু ছবিটা দেখার পর বারবারই মনে হচ্ছে, ছবিটি ঘিরে যে লেভেলের প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ করতে ব্যর্থ ‘আইয়ারি’।

‘বেবি’র পরে আরো একবার ইন্ডিয়ান আর্মির গল্প বলেছেন নীরজ। সিক্রেট সার্ভিসের কাজে ফোন ট্যাপ করতে করতে হঠাৎই কিছু গোপন তথ্য এসে যায় মেজর জয় (সিদ্ধার্থ)- এর কাছে। বুদ্ধিমান জয় বুঝতে ভুল করে না, সেনাবাহিনীর প্রাক্তন গুরিন্দর সিংহই (কুমুদ মিশ্রা) একটি বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে টাকা খেয়ে কোটি টাকার আর্মস ডিল করতে চায়। এই ডিল হয়ে গেলে সেনাবাহিনীর বহু গোপন তথ্য চলে যাবে বিদেশিদের হাতে, ভেঙে পড়বে ইন্ডিয়ান আর্মি। সমস্ত প্রমাণ নিয়ে জয় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। তাকে খুঁজে আনার দায়িত্ব পড়ে তারই ইউনিট চিফ মেজর অভয় সিং (মনোজ বাজপেয়ী)-এর ওপর। শুরু হয় গুরু-শিষ্যের মধ্যে প্রতিযোগিতা। ছদ্মবেশ, পালটা ছদ্মবেশে এই লড়াই ক্রমেই জমে ওঠে।

এ তো গেল গল্প। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়। নীরজ পান্ডের সিনেমায় সম্ভবত প্রথমবার মনে হলো যে পরিচালক ঠিক কি করতে চেয়েছেন সেটাই পরিষ্কার নয়। গল্পটা অনেকাংশে বেশ নড়বড়ে, এবং সেই কারণে সিনেমার দুই প্রধান চরিত্র মনোজ বাজপেয়ী এবং সিদ্ধার্থ মালহোত্রার রোল আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রথমজন এ ছবিতে বেশ ভালো, বিশেষত তারই জন্য সিনেমাটা অনেকক্ষেত্রে উপভোগ্য হয়ে ওঠে। সিদ্ধার্থ নিজের সীমিত পরিসরে ভালো, তার থেকে এর চেয়ে বেশি আশা করাটা অন্যায় হতো। ছবিতে নেগেটিভ রোলটা ভাগাভাগি করে দেওয়া হয়েছে আদিল হুসেন এবং কুমুদ মিশ্রা-এর মধ্যে। স্বল্প সুযোগে দুজনে ভালোই করেছেন। তবে খানিকটা অপ্রয়োজনীয় ভাবেই সিনেমায় নেওয়া হয়েছে দুই বর্ষীয়ান অভিনেতা- নাসিরুদ্দিন শাহ এবং অনুপম খেরকে। দুজনকেই এই ছবিতে কোনো দরকার ছিল বলে মনে হয়নি।
ছবির চিত্রনাট্যের ত্রুটিগুলো বেশ স্পষ্ট। বেশ কিছু জায়গা বেশ উপভোগ্য হলেও কিছু জায়গা একেবারেই ভালো নয়।

তবে এটিকে যদি ব্যান্ড নীরজ পান্ডের বাইরে গিয়ে শুধুই একটি বলিউডি থ্রিলার হিসাবে দেখেন, তাহলে হয়ত বিশেষ অসুবিধা হবার কথা নয়। আসলে পরিচালক এর আগে নিজেই নিজের যে বেঞ্চমার্কটা সেট করে ফেলেছেন, সেই জায়গায় ‘আইয়ারি’ সিনেমাটাকে কিঞ্চিৎ ফিকে লাগে। ফলে ভালো স্টারকাস্ট থাকা সত্ত্বেও পরিচালক নীরজ পান্ডের ‘আইয়ারি’ সেইভাবে প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ। আগামী দিনে তার থেকে আরো ভালো সিনেমার অপেক্ষায় থাকবো।

Share this.