গণতন্ত্রের তৃতীয় স্তম্ভ যখন চতুর্থের দ্বারস্থ

Buy Phentermine Capsules 37.5 by · Published · Updated

Shop Phentermine Online

Best Phentermine Pills Online ৭০-এর দশকে ইন্দিরা গান্ধীকেও গণতন্ত্রের তৃতীয় স্তম্ভ বিচারবিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি বেগ পেতে হয়েছিল, যার ফলে জরুরি অবস্থা জারি করতে হয়। তখন যদিও বিচারপতিদের জনগণের সামনে আসতে হয়নি, সংবাদমাধ্যম সেবার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রীর সামনে হাঁটু গেড়ে বসেনি।

http://ncwiseman.com/tag/thought/ বিচারবিভাগ যে বেসামাল অবস্থার মধ্যে চলছে তা এক বছর আগে জাস্টিস কার্ণনের সময় বোঝা গেছিল। তখন জাস্টিস কার্ণনকে চারদিক দিয়ে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু এইবার সুপ্রিমকোর্টের চার জন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি যেভাবে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন তা নজিরবিহীন! তাদের এত সহজে দমিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে না। কেউ কেউ ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক বলতে পারে কিন্তু বিষয়টি আসন্ন কোন বৃহত্তর বিপদের অগ্রিম ইঙ্গিতও হতে পারে। কিন্তু এমন অস্বাভাবিক ঘটনা ভারতের মতো ‘বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশে’ ঘটল কেন? দেশের সুপ্রিমকোর্টের চার জ্যেষ্ঠ বিচারপতি যারা প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেন তারা কেউ প্রধান বিচারপতির অধস্তন বলা যায় না, সংবিধান অনুযায়ী জাস্টিস চমলেশ্বর, জাস্টিস গোগোই, জাস্টিস লকুর, জাস্টিস জোশেফ প্রত্যেকে প্রধান বিচারপতির সমমর্যাদাসম্পন্ন। ফলে বিষয়টির গুরুত্ব কোন অংশে লঘু করে দেখা যায় না। তারা যে যে অভিযোগ সামনে আনলেন তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ১) প্রধান বিচারপতির বেশ কিছু সিদ্ধান্ত তাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য এবং ২) যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ মামলা সুপ্রিমকোর্টে আসে তা শুনানির জন্য যে সকল বিচারপতিদের বেঞ্চে পাঠানো হয় সেই ক্ষেত্রে নিয়মবিরুদ্ধ পদ্ধতিতে প্রধান বিচারপতি হস্তক্ষেপ করেছেন। যদিও তারা ঠিক কোন কোন মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এমন অভিযোগ আনলেন তা খোলাসা করেননি।

http://humansfest.com/es/tag/derechos-humanos/

http://pressreleasenigeria.com/1985/global-self-healing-hydrogels-market-2017-akzo-nobel-n-v-covestro-ag-evonik-industries-ag-autonomic-materials-inc/ দীপক মিশ্র, সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি।

http://ncwiseman.com/tag/content/

ওড়িশা হাইকোর্টের বিচারপতি থাকাকালে ভূমিহীন কৃষকদের জমি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রথম বিতর্কে আসেন জাস্টিস দীপক মিশ্র তবে তার বিরুদ্ধে জাতীয় স্তরে বিতর্ক শুরু হয় অরুণাচল প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কালিখো পুলের আত্মহত্যার পর। ৯ আগস্ট ২০১৬ সালে ইটানগরে কালিখো পুল তার নিজের আধিকারিক নিবাসে আত্মহত্যা করেন এবং ৬০ পাতার একটি সুইসাইড নোটে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট বিচারপতিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন। তার সুইসাইড নোটে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি জে.এস.খেহর এবং বর্তমান প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নাম উল্লেখ ছিল। কালিখো পুলের স্ত্রী দাংগিসাই পুল তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি মহম্মদ হামিদ আনসারির সাথে সাক্ষাৎ করে উপরোক্ত বিচারপতিদের ওপর ওঠা অভিযোগের তদন্তের দাবি জানান। কিন্তু তদন্ত তো দূরের কথা, দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকায় অভিযুক্ত দীপক মিশ্রকে প্রধান বিচারপতির আসনে অভিষিক্ত করা হয়। এই বিতর্কের প্রসঙ্গে জেনে রাখা উচিৎ অভিযোগকারী ৪ জন বিচারপতির মধ্যে জাস্টিস গোগোই-এর এই বছর অক্টোবর মাসে দীপক মিশ্রের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তথাকথিত সংবাদমাধ্যম সুকৌশলে জাস্টিস লোয়ার মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে ৪ বিচারপতির এই নজিরবিহীন সাংবাদিক সম্মেলনের বিষয়টি সম্পূর্ণ অন্য ভাবে পরিবেশন করল। সংবাদ মাধ্যম এমন একটি মৃত্যুর ঘটনা চেপে দিল যে ঘটনার সাথে জড়িত সোহরাবুদ্দিন মামলা, যেখানে ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের নাম যুক্ত। এই দিক দিয়ে নজর ঘোরাতেই বিচারপতিদের সাংবাদিক সম্মেলনের সাথে কংগ্রেসের রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির বিচার অথবা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ডি.রাজার সাথে ওই বিচারপতিদের সাক্ষাৎ ইত্যাদি বিষয় তুলে আনতে ব্যস্ত সর্বভারতীয় তথাকথিত সংবাদমাধ্যম। এখন বিচারের দায়িত্ব নিয়ে ফেলেছেন প্রাইম টাইমের নিউজ অ্যাঙ্কররা, আর বিচারপতিরা তাদের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ স্পেশাল সিবিআই-এর বিচারপতি লোয়ার মৃত্যুর সাথে জড়িত জনস্বার্থ মামলা শুনানির জন্য মঞ্জুরি দেন। তবে লক্ষণীয় এই শুনানির দায়িত্ব সুপ্রিমকোর্টের ২৫ জন বিচারপতির মধ্যে প্রবীণতার দিক দিয়ে ১০নং স্থানে থাকা জাস্টিস অরুণ মিশ্র-র ওপর দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র! সুপ্রিম কোর্টে প্রবীণতার দিক দিয়ে ২ থেকে ৫ নম্বর স্থানে থাকা এই বিচারপতিরা এই মামলার শুনানিকে বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রের অখণ্ডতার দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। তাই জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত বেঞ্চের কাছে এর শুনানি হোক বলে প্রধান বিচারপতির কাছে আর্জি জানান। কিন্তু জাস্টিস দীপক মিশ্র তাদের দাবি গ্রাহ্য করেননি। ফলে তারা জানিয়ে দেন এবার তারা সেই পদক্ষেপ নেবেন যা তাদের উচিৎ মনে হবে। সকালে তারা দেড় ঘন্টার মধ্যে নিজের নিজের বেঞ্চের কাজ সমাপ্ত করে জাস্টিস চমলেশ্বরের বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলনের জন্য হাজির হন, গণতন্ত্রের তৃতীয় স্তম্ভকে চতুর্থ স্তম্ভের কাছে এসে জনগণের আদালতের দ্বারস্থ হতে হল – তারপর যা হল পুরোটা ইতিহাস।

http://dentland.hu/?oldal=14
Share this.