‘গুডনাইট সিটি’র রাত্রি কতটা শুভ? জানতে অবশ্যই পড়তে হবে রিভিউ।

কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের ‘গুডনাইট সিটি’ আপনি অবশ্যই দেখবেন। কিন্তু আবারও বলা দরকার, এই সিনেমা হয়ত সবার জন্য নয়। বাংলায় এখন এই ধরনের অন্যধারার বিষয় নিয়ে অনেক কাজ হচ্ছে।

http://fundacionporlajusticia.org/index.php/ca/node/28

http://newfarminstitute.org/2015/06/ ছবির নাম ‘গুডনাইট সিটি’। যখন আমাদের চারিদিকে রাত নামে, প্রিয়জনকে শুভরাত্রি উইশ করে ঘুমিয়ে পড়ে আমার শহর, ঠিক তখনই জেগে ওঠে অপরাধীর অপরাধ সত্ত্বা। তার এই প্রবৃত্তি ধীরে ধীরে গ্রাস করতে চায় তার চারদিকের জগতটাকে। রোজকার চেনা পৃথিবীটা একটু একটু করে অচেনা হয়ে উঠতে থাকে।

Buy Phentermine 37.5 Uk ‘গুডনাইট সিটি’ ঠিক এরকমই একটি রাতের গল্প। মধ্যরাতে হঠাৎই বেজে ওঠে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আভেরির (ঋতুপর্ণা)-র টেলিফোন। টেলিফোনের অপর দিক থেকে ভেসে আসে অভিমুন্য (ঋত্বিক চক্রবর্তী) নামের এক অপরিচিত ব্যক্তির কণ্ঠস্বর। আভেরিকে সে জানায়, যে নিজের বাবা এবং বাগদত্তাকে সে কিছুক্ষণ আগেই খুন করেছে, এবং তার নিজের ভাই বাপিন তাকে খুন করার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। অভিমুন্য বাঁচার জন্য আভেরির কাছে সাহায্য চায়। এরপর রাত যত গভীর হতে থাকে, আভেরি আর অভিমুন্যের গল্পও ততই এগিয়ে যেতে থাকে। কেন সে দুটো খুন করলো, অথবা কেনই বা তার ভাই তাকে মারতে চায়, এই সব প্রশ্নের উত্তর উঠে আসতে থাকে তাদের এই কথোপকথনের মাধ্যমে। ধীরে ধীরে আভেরির মনে হয়, অভিমুন্য মানসিক রোগে আক্রান্ত একজন মানুষ। কিন্তু খুনের ধরন বা কথাবার্তা শুনে সদলবলে আসরে নামেন আভেরির স্বামী, পুলিশের বড়কর্তা ঋষি (শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়)। তার মতে, অভিমুন্য শুধুমাত্র মানসিক রুগীর অভিনয় করছে, এবং এই খুনগুলো করা ও তা ফোনে জানানো- সবটাই তার পূর্বপরিকল্পিত। তাহলে সত্যিই কি অভিমুন্য সাইকোপ্যাথ ? তাছাড়া তার ভাইও বা তাকে মারতে চায় কেন ? শুধুই সম্পত্তি, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনো ষড়যন্ত্র ? গল্প যত এগিয়ে চলে, রহস্য ততই ঘনীভূত হয়ে ওঠে। তারপর কি হয়, সেটা না হয় নাই বা বললাম। সেটা জানার জন্য অবশ্যই ছবিটা দেখতে হবে।

এ তো গেল ছবির গল্প। এবার আসি অভিনয় প্রসঙ্গে। শুরু থেকে শেষ, এ ছবিতে শুধু তাকিয়ে থাকতে হয় ঋত্বিক চক্রবর্তীর দিকে। ‘শব্দ’, ‘মাছের ঝোল’ বা ‘অনুব্রত ভালো আছো’র মত ছবি করলেও দর্শক এর আগে কখনোই ঋত্বিককে এমন চরিত্রে পর্দায় দেখেননি। মুখ্য চরিত্রে তার অসাধারণ এবং সাবলীল অভিনয়ের পাশাপাশি ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, পায়েল সরকার বা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়দের যোগ্য সঙ্গত ছবিটিকে অবশ্যই অন্য মাত্রা দিয়েছে। এছাড়াও অভিমুন্যের দাপুটে বাবা হিসাবে সুদীপ মুখার্জী বেশ ভালো। ছোট্টো চরিত্রে সায়নী ঘোষ এবং অরুনিমা ঘোষও মন্দ নন।

Buy Generic Adipex Online তবে এত ভালো দিকের পাশাপাশি ছবির দু’একটি জায়গা আরো ভালো হতে পারতো বলে মনে হলো। বিশেষত ছবির প্রথমার্ধে যে টানটান ব্যাপারটা ছিল, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে সেটা আচমকাই কিছুটা হালকা হয়ে আসে। থ্রিলারের ক্লাইম্যাক্সের অসাধারণ প্লট টুইস্টের আগে এই জায়গাটা হয়ত আরো একটু জমাটি হতেই পারতো।

সব মিলিয়ে, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের ‘গুডনাইট সিটি’ আপনি অবশ্যই দেখবেন। কিন্তু আবারও বলা দরকার, এই সিনেমা হয়ত সবার জন্য নয়। বাংলায় এখন এই ধরনের অন্যধারার বিষয় নিয়ে অনেক কাজ হচ্ছে। ‘গুডনাইট সিটি’ ছবিটি এর অসাধারণ গল্প আর ঋত্বিক চক্রবর্তীর অভিনয়ের জন্য অনন্যতার দাবি করতেই পারে।

Share this.