কলকাতার থিয়েটার দুনিয়াতে নতুন ‘কাহিনী’।

কলকাতা- আমরা চেষ্টা করি সমাজের ভালো খারাপ দুটো দিকই দর্শকের সামনে তুলে ধরতে।সব দর্শক সবসময়ে সব খবর পান না,পেলেও আমাদের popular mass media তে খবর গুলো নিজেদের মতো ইনফ্লুয়েন্সড হয়ে পৌঁছায়, সেটা সবসময় সঠিক না। 

হীরক শহর, লুডোর কাহিনী বলে ইতিমধ্যে বেশ পরিচিতি পেয়েছে ‘কাহিনী’। ব্যারাকপুর’এ রিহার্সেল করলেও কলকাতা জুড়ে নাটক করে এই দল। আজ তাদের মুখ থেকে তাদের কাহিনী শোনা হল। ছিল দলের প্রেসিডেন্ট, ফাউন্ডার অরুণাভ, দলের সেক্রেটারি অনির্বাণ, দলের ফাউন্ডিং মেম্বার আকাশ এবং পৃথা।

আচ্ছা কাহিনীর কাহিনী শুরু কিভাবে হলো?

অরুণাভ: আমি আগে অন্য দলে থিয়েটার করতাম, একদিন ভাবলাম নিজেদের একটা দল হলে কেমন হয়, তখনি আমার বেশ কিছু বন্ধু দের ডাকি, সবাই মিলে শুরু করি কাহিনী। তারপর নিজেদের রিহার্সাল’র জন্য বেশ কিছু জায়গা ঠিক করি। প্রথম দিকে শো করিনি, ৩-৪ মাস পর নিজেরাই লিখে মঞ্চে অভিনয় করা শুরু করি আমরা। আর আমাদের অধিকাংশ নাটক মৌলিক, অর্থাৎ আমাদের নিজেদের লেখা নাটক, কোনো টা আমার লেখা,এখন আকাশ লিখছে। আর আমাদের নাটক করার উদ্দেশ্য আছে, নিজেদের একটা Propaganda আছে। এভাবেই চলছে দল,আগামী দিনেও এভাবেই চলবে।

প্রত্যেক মাসে শো করতে আর্থিক ভাবে সমস্যা হয় না? প্ল্যান কিভাবে হয়?

অনির্বাণ : হ্যাঁ,প্রত্যেক মাসে শো করতে অনেক খরচা। অন্তত আমাদের মতন দলে যেখানে বাইরে থেকে কোনো অর্থ আসে না, সেখানে তো বটেই। পুরো টাই নিজেদের টাকা আর টিকিট বিক্রির টাকা দিয়ে করতে হয়।।

অরুণাভ – আসলে আমরা খুব ভাগ্যবান যে এতো কম সময়ে দর্শক আমাদের গ্রহণ করেছেন। তাদের কেনা টিকিটের টাকা তেই আমরা শো করি। তাই প্রত্যেক বার ওনাদের কৃপা তেই নাটকের সিট ভর্তি থাকে। আর আমাদের পি.আর খুব স্ট্রং, ফলে মানুষ’র কাছে খুব তাড়াতাড়ি পৌছেঁ যাই আমরা।

এখন তো হীরক শহর চলছে,কেমন চলছে? দর্শক কি বলছে?

পৃথা-‘হীরক শহর’এর ৩টি শো ইতিমধ্যেই কলকাতার বুকে সাফল্যের সাথে মঞ্চস্থ করে ফেলেছি আমরা-কাহিনী।চিরাচরিত ভাবে হয়ে আসা নাটকের রীতি টাকে পাল্টে একটু অন্যরকম আস্বাদ দিতে পেরেছি বলেই হয়তো দর্শকের মনে ধরেছে।তাদের মতে, হীরক রাজার দেশের কন্সেপ্ট কে ফুটিয়ে তুলে যেমন নস্টালজিয়াকে তারা ফিরে পেয়েছে আবার তেমনি হাস্যরসের মোড়কে তারা বর্তমান সমাজের ক্রম-ক্ষয়িষ্ণু রূপকেও দেখতে পেয়েছে। কোনোরকম রেকর্ডিং এর ধার না ঘেঁষে গুপীর কণ্ঠে মঞ্চে গান তাদের মন কেড়েছে। একটা শো করে বেরিয়েই যখন লোকে জিজ্ঞেস করে ‘হীরক শহর’এর পরের শো আবার কবে হচ্ছে, অমুককে নিয়ে আবার দেখতে আসবো, কিংবা যখন কল করে কেউ জানাচ্ছে আবার যেন হয় হীরক শহর, তখন এটুকু অন্তত পরিষ্কার হয়ে যায় মানুষের মনে কতটা ছাপ ফেলতে পেরেছি আমরা।

কাহিনীর নাটক করার উদেশ্য? 

আকাশ- আমরা নাটক টা করি as a ‘miror of the society’ অর্থাৎ কিনা আমরা চেষ্টা করি সমাজের ভালো খারাপ দুটো দিকই দর্শকের সামনে তুলে ধরতে। সব দর্শক সবসময়ে সব খবর পান না,পেলেও আমাদের popular mass media তে খবর গুলো নিজেদের মতো ইনফ্লুয়েন্সড হয়ে পৌঁছায়, সেটা সবসময় সঠিক না।আমাদের নিজেদের কিছু প্রোপাগন্ডা আছে,যেখান থেকেই আমাদের মনে হয়েছে সমাজের ভালো খারাপ দুটোই দেখানো উচিৎ। নাটক টা করে যদি কিছু বদল আনতে পারি। ক্যাথারসিস লোকজন ট্রাজিক নাটক করতো মানুষের মনে ভয় আর দুঃখের ইমোশন গুলোর এক্সারসাইজ করানোর জন্য। সেখানে আজ আমরা নাটক করছি মানুষের বিবেক বোধ জাগানোর জন্য। আজকে যতজনই নাটক দেখতে আসুক না কেনো, তার মধ্যে কিছু মানুষের মধ্যেও যদি আমরা বিবেক জাগাতে পারি, সেটা আমাদের অ্যাচিভমেন্ট।

আগামী দিনে কি কাজ দেখা যাবে?

অরুণাভ – আপাতত পূজোর আগে পর্যন্ত হীরক শহর চলবে। তারপর আমাদের বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে ২০২০ পর্যন্ত। হয়তো খুব শিজ্ঞির কাহিনীর পক্ষ থেকে একটা announcement করা হবে। ধন্যবাদ।

Share this.